• u. Oct ২১, ২০২১

আমিওপারি ডট কম

ইতালি,ইউরোপের ভিসা,ইম্মিগ্রেসন,স্টুডেন্ট ভিসা,ইউরোপে উচ্চ শিক্ষা

নেদারল্যান্ডে ভিন্ন আঙ্গিকে অমর একুশে পালিত।

Byrafiqul islam akash

Feb 25, 2016

“আমাদের মাতৃভাষা ও সংস্কৃতিকে এবং বৈচিত্রের মধ্যকার ঐক্যকে আমাদের বাঁচাতেই হবে”। নেদারল্যন্ডের দি হেগের জাউদার পার্কে ২১শে ফেব্রুয়ারী বাংলাদেশ দূতাবাস কর্তৃক আয়োজিত অমর একুশে ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপন অনুষ্ঠানে প্রায় ১০ টি দেশের কয়েকশত মানুষের এই ছিল আকুতি। এ বছর ভারত, ইন্দোনেশিয়া, মালয়শিয়া, নেপাল, শ্রীলংকা, থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনাম দূতাবাস বাংলাদেশ দূতাবাস কর্তৃক আয়োজিত অমর একুশে ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপন অনুষ্ঠানে যোগ দেয়।

বাংলাদেশের রাষ্ট্রদুত শেখ মুহম্মদ বেলাল বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনে শহীদের শ্রদ্ধা জানিয়ে, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের উদ্দীপনায় মানবিকতা কে প্রাধান্য দিতে আহ্বান জানান। রাষ্ট্রদূত সহনশীলতা ও সংলাপে সকলকে উদ্বুদ্ধ করতে ভাষাগত বৈচিত্র ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে লালন করার প্রতি গুরুত্বারোপ করেন। তিনি তাঁর বক্তব্যে বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অনন্যসাধারণ নেতৃত্বের কথা স্মরণ করেন। তিনি ২১ শে ফেব্রুয়ারীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের স্বীকৃতি অর্জনের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্ব ও প্রবাসী বাংলাদেশীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা উল্লেখ করেন।

অমর একুশের অনুষ্ঠানমালা শুরু হয় ভাষা শহীদদের শ্রদ্ধা জানাতে দি হেগের ডেপুটি মেয়র, রাষ্ট্রদূতবৃন্দের শহীদ মিনারে শ্রদ্ধার্ঘ অর্পনের মাধ্যমে। পরবর্তীতে দূতাবাস, হল্যান্ড আওয়ামী লীগ ও প্রবাসীদের সংগঠন সীমানা পেরিয়ে ও সোনার বাংলা ও সর্বস্তরের জনগন একে একে শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পনের মাধ্যমে শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। এর আগে দূতাবাস প্রাঙ্গনে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত করেন মান্যবর রাষ্ট্রদূত। মহামান্য রাষ্ট্রপতি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, মাননীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও মাননীয় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কর্তৃক প্রদত্ত বাণী সমূহ পাঠ করা হয়।

অমর একুশের আলোচনা সভায় দি হেগের ডেপুটি মেয়র রাবিন বালদেবসিং, থাইল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত ইত্তাপর্ন বুনপ্রাকং, ভারতের রাষ্ট্রদূত জে.এস. মুকুল ও শ্রীলংকার রাষ্ট্রদূত এ.এম. সাদিক ও ইন্দোনেশিয়া দূতাবাসের ডেপুটি হেড ইবনু ওয়াহিতোমো এবং হল্যান্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি মায়িদ ফারুক অংশ নেন। থাইল্যান্ড, ভারত ও শ্রীলংকার রাষ্ট্রদূতবৃন্দ ও ইন্দোনেশিয়ার ডেপুটি তাঁদের নিজ নিজ দেশে ভাষা ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্রের কথা তুলে ধরার পাশাপাশি অত্র অঞ্চলের সংস্কৃতিগত সাদৃশ্যে বিষয়টিও উল্লেখ করেন। হেগের ডেপুটি মেয়র একটি স্থায়ী শহীদ মিনার স্থাপনের বিষয়ে সহযোগিতা প্রদানের অংগীকার করেন।

দিবসটি উপলক্ষে একটি মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয় যেখানে বাংলাদেশ, ভারত, মালয়শিয়া, নেপাল, শ্রীলংকা, থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনামের স্থানীয় অধিবাসীরা অংশ নেন। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহনকারী দেশসমূহের ঐতিহ্যবাহী রং বেরং এর পোষাক ও পরিবেশনা সকলকে মুগ্ধ করে। অনুষ্ঠানশেষে রাষ্ট্রদূত পত্নী ড: দিলরুবা নাসরিন অংশগ্রহনকারী শিল্পীদের হাতে স্মারক উপহার তুলে দেন। সবশেষে নেদারল্যান্ডের বিভিন্ন স্থান ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশ থেকে আগত প্রায় তিন শতাধিক অতিথিকে আপ্যায়িত করা হয় চিরায়ত বাংলার ঐতিহ্যবাহী আতিথেয়তায়।

*****লেখাটি ভালো লাগলে আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুণ!*****

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *