• u. Sep ১৬, ২০২১

আমিওপারি ডট কম

ইতালি,ইউরোপের ভিসা,ইম্মিগ্রেসন,স্টুডেন্ট ভিসা,ইউরোপে উচ্চ শিক্ষা

আজকের দিনে একজন বাঙ্গালী ও দেশপ্রেমিক হিসাবে এই তথ্য গুলো আমাদের সবার জানা উচিত!!

ByLesar

Dec 16, 2014

লিখেছেন তানবীর (জিরো গ্রাভিটি): আজকের এইক্ষণে আমরা জেনে নিবো(একজন দেশপ্রেমিক হিসাবে এই তথ্য গুলো আমাদের সবার জানা উচিত) বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ, আমাদের জাতীয় বীরদের নাম, তাদের সংক্ষিপ্ত জীবনী ………।।

আমাদের পরম অর্জন, মহান বিজয়ের ৪৩তম বার্ষিকী । লাখো শহীদের রক্তস্নাত বিজয়ের দিন।দীর্ঘ নয় মাস হানাদার বাহিনীর পাশবিকতা, বর্বরতার বিরুদ্ধে এ ভূ-খন্ডের সর্বস্তরের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত ও অবিরাম লড়াইয়ের ফসল আজকের বাংলাদেশ, আমাদের লাল-সবুজের পতাকা।
** একাত্তরে মুক্তিকামী বাঙালির বিজয়ের এ দিনটি ছিলো বৃহস্পতিবার।

 

* ১১ জুলাই বাংলাদেশের সামরিক কমান্ড তৈরি করা হয়।
কর্ণেল এম এ জি ওসমানীকে কমান্ডার ইন চিফ,
লেফট্যানেন্ট কর্ণেল আবদুর রবকে চিফ অফ আর্মি স্টাফ এবং
গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ কে খোন্দকারকে ডেপুটি চিফ অফ আর্মি স্টাফ ও চিফ অফ এয়ার ফোর্সের দায়িত্ব দেয়া হয়।
বাংলাদেশকে সর্বমোট ১১টি সেক্টরে ভাগ করা হয় এবং পাকিস্তান আর্মি থেকে পালিয়ে আসা অফিসারদের মধ্য থেকে প্রতিটি সেক্টরের জন্যে একজন করে কমান্ডার নির্বাচন করা হয়।

* আগস্ট মাস থেকে শুরু হয় ইতিহাসিক হামলা, ইতিহাসে এ হামলা #‎অপারেশন_জ্যাকপট‬ নামে পরিচিত।

* ১৬ ডিসেম্বর বিকেলে রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) বাংলাদেশে অবস্থিত পাকিস্তানী সামরিক বাহিনীর অধিনায়ক লেঃ জেঃ এ. এ. কে নিয়াজী হাজার হাজার উৎফুল্ল জনতার সামনে আত্মসমর্পণের দলিলে স্বাক্ষর করে।
* প্রায় ৯৩,০০০ পাকিস্তানী সৈন্য আত্মসমর্পণ করে, যা ছিল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সর্ববৃহৎ আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠান। বাংলাদেশের মানুষের বহু আকাঙ্খিত বিজয় ধরা দেয় যুদ্ধ শুরুর নয় মাস পর। ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তান সেনাবাহিনী আত্মসমর্পন করলেও সারা দেশে সকল পাকিস্তানীদের আত্মসমর্পণ করাতে ২২ ডিসেম্বর পর্যন্ত হয়ে যায়।

* ৬ই ডিসেম্বরে ভারত সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয় বাংলাদেশ সম্পর্কে কূটনৈতিক স্বীকৃতি। “বেলা এগারোটার সময় ‘অল ইন্ডিয়া রেডিও’ মারফত ঘোষণা করা হলো যে ভারত বাংলাদেশকে সার্বভৌম রাষ্ট্র বলে স্বীকৃতি দিয়েছে।

* ১৯৭১-এর শেষভাগে সোভিয়েত রাশিয়ার সমর্থন নিশ্চিত হওয়ার পর ভারত সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপ করে যার ফলে এই যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হয় নি।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে অবদানকারী বিশেষ বিশেষ মুক্তিযোদ্ধাদেরকে তাঁদের অবদানের ও গুরুত্বের ক্রমানুসারে বীরত্বের জন্য বাংলাদেশ সরকার ১)বীরশ্রেষ্ঠ, ২)বীরউত্তম, ৩)বীরবিক্রম ও ৪)বীরপ্রতীক উপাধিতে ভূষিত করেন।
১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের পরই এই পদকগুলো দেয়া হয়। ১৯৭৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর বাংলাদেশ গেজেটের একটি অতিরিক্ত সংখ্যায় প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই পদকপ্রাপ্তদের নাম ঘোষণা করা হয়।

জাতীয় বীরগণঃ
==============
সাত বীরশ্রেষ্ঠ পরিচিতিঃ
বীর শ্রেষ্ঠ বীরত্বের জন্য প্রদত্ত বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সামরিক পদক। যুদ্ধক্ষেত্রে অতুলনীয় সাহস ও আত্মত্যাগের নিদর্শন স্থাপনকারী যোদ্ধার স্বীকৃতিস্বরূপ এই পদক দেয়া হয়। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে শহীদ সাতজন মুক্তিযোদ্ধাকে এই পদক দেয়া হয়েছে ।
এদের সংক্ষিপ্ত পরিচিত নিচে দেওয়া হল

বীর উত্তম খেতাবে ভূষিত জাতীয় বীরগণঃ
১৫ ডিসেম্বর ১৯৭৩ ৬৮ জনকে এবং পরবর্তীতে ১জন সহ মোট ৬৯জনকে বীর উত্তম খেতাবে ভূষিত করা হয়। এদের মধ্যে ২১ জনকে মরণোত্তর পদক দেওয়া হয়। বীর উত্তম ২য় সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় পদক।

বীর উত্তম পদকপ্রাপ্ত জাতীয় বীরদের তালিকা
http://bn.wikipedia.org/wiki/বীর_উত্তম

বীর বিক্রম খেতাবে ভূষিত জাতীয় বীরগণঃ
১৫ ডিসেম্বর ১৯৭৩ ৮২জনকে মরণোত্তরসহ মোট ১৭৫জনকে বীর বিক্রম খেতাবে ভূষিত করা হয়। বীর বিক্রম ৩য় সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় পদক।

বীর বিক্রম পদকপ্রাপ্ত জাতীয় বীরদের তালিকা
http://bn.wikipedia.org/wiki/বীরবিক্রম

বীরপ্রতীক খেতাবপ্রাপ্ত রাষ্ট্রীয় বীরগণঃ
সর্বমোট ৮২৬জন বীরকে মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্য বীরপ্রতীক পদকে ভূষিত করা হয়।

বীরপ্রতীক খেতাবপ্রাপ্ত রাষ্ট্রীয় বীরগণের তালিকা
http://bn.wikipedia.org/wiki/বীরপ্রতীক

সাত বীরশ্রেষ্ঠ পরিচিতি
===============================

ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখঃ
—————————–
জন্ম : ২৬ ফেব্রুয়ারি ১৯৩৬।
জন্মস্থান: মহিষখোলা, চণ্ডীবরপুর, সদর নড়াইল।
পিতা: মোহাম্মদ আমানত শেখ।
মাতা: জেন্নাতুন্নেসা।
যে সেক্টরে যুদ্ধ করেন : ৮ নং সেক্টর।
স্ত্রী: মোসাম্মাৎ তোতা বেগম।
কর্মস্থল: পূর্ব পাকিস্তান রাইফেলস (ইপিআর)।
মৃত্যু: ৫ সেপ্টেম্বর ১৯৭১।
সমাহিত করা হয় : যশোরের শার্শা উপজেলার কাশিপুর গ্রামে।

নায়েক মুন্সী আবদুর রউফঃ
—————————–
জন্ম : মে, ১৯৪৩।
জন্মস্থান : সালামতপুর, কামারখালী, মধুখালী (সাবেক বোয়ালখালী থানা), ফরিদপুর।
পিতা: মেহেদী হোসেন।
মাতা: মুকিদুন্নেসা।
মৃত্যু: ৮ এপ্রিল, ১৯৭১।
শহীদ হন: রাঙ্গামাটি জেলার নানিয়ারচর উপজেলার বুড়িমারি এলাকার চিংড়িখালের পাড়ে পাকিস্তানি সৈন্যদের ছোঁড়া মর্টারের গোলায়।
কর্মস্থল : পূর্ব পাকিস্তান রাইফেলস (ইপিআর)।

ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীরঃ
—————————–
জন্ম : ১৯৪৮।
জন্মস্থান : রহিমগঞ্জ, আগরপুর, বাবুগঞ্জ, বরিশাল।
পিতা : আবদুল মোতালেব হাওলাদার।
মাতা : সাফিয়া বেগম।
কর্মস্থল : সেনাবাহিনী।
মৃত্যু : ১৪ ডিসেম্বর, ১৯৭১।
শহীদ হন : চাঁপাইনবাবগঞ্জ ঘাঁটি দখল করতে গিয়ে সম্মুখ সমরে।
যে সেক্টরে যুদ্ধ করেন : ৭ নং সেক্টরে, সাব-সেক্টর কমান্ডার হিসেবে।

ইঞ্জিনরুম আর্টিফিসিয়ার রুহুল আমিনঃ
—————————–
জন্ম : ১৯৩৪।
জন্মস্থান : বাগপাঁচড়া, দেউটি, সোনাইমুড়ী, নোয়াখালী।
পিতা : আজহার পাটোয়ারী।
কর্মস্থল : নৌবাহিনী।
মৃত্যু : ১০ ডিসেম্বর, ১৯৭১।
শহীদ হন : খুলনার রূপসা উপজেলার জাহাজ পলাশ নিয়ে খুলনার উদ্দেশে রওনা হওয়ার পর পাকিস্তান বিমান বাহিনীর নিক্ষিপ্ত গোলায়।
যে সেক্টরে যুদ্ধ করেন : ১০ নং সেক্টরে।

সিপাহি মোহাম্মদ মোস্তফা কামালঃ
—————————–
জন্ম : ১৬ ডিসেম্বর, ১৯৪৭।
জন্মস্থান : মৌটুপি গ্রাম, আলীনগর, ভোলা।
পিতা : হাবিবুর রহমান (সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত হাবিলদার)
মাতা : মালেকা বেগম।
কর্মস্থল : সেনাবাহিনী।
মৃত্যু : ১৭ এপ্রিল, ১৯৭১।
শহীদ হন : ব্রাহ্মণবাড়িয়া আখাউড়া উপজেলার দক্ষিণে গঙ্গাসাগরের উত্তরে দরুইন গ্রামে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সঙ্গে যুদ্ধে।
যে সেক্টরে যুদ্ধ করেন : ২ নং সেক্টরে।

ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমানঃ
—————————–
জন্ম : ২৯ নভেম্বর, ১৯৪২।
জন্মস্থান : মোবারক লজ, ১০৯ আগা সাদেক রোড,ঢাকা।
পিতা : মৌলবি আবদুস সামাদ ( পেশায় কালেক্টরেট অফিস সুপারিন্টেনডেন্ট)।
পৈতৃক নিবাস : রামনগর, মুসাপুর, রায়পুরা, নরসিংদী।
কর্মস্থল : বিমানবাহিনী।
মাতা : সৈয়দা মোবারকুন্নেসা খাতুন।
স্ত্রী : মিলি রহমান।
সন্তান : ২ কন্যা ৯ (মাহিন মতিউর ও তুহিন মতিউর হায়দার)
মৃত্যু : ২০ আগস্ট ১৯৭১।
শহীদ হন : মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেয়ার জন্য পাকিস্তানের করাচির মৌরিপুর বিমানঘাঁটি থেকে প্রশিক্ষণ বিমান নিয়ে পালিয়ে আসার সময় তার সহযাত্রী রশিদ মিনহাজের সঙ্গে ধস্তাধস্তির সময় বিমান বিধ্বস্ত হয়ে ভারতীয় সীমান্তে বিন্দ গ্রামের থাট্টায় শহীদ হন।
যে বিমানে পালিয়ে আসতে চেয়েছিলেন : টি ৩৩ (যার ছদ্মনাম ব্লু বার্ড ১৬৬)।

সিপাহি মোহাম্মদ হামিদুর রহমানঃ
—————————–
জন্ম : ২ ফেব্রুয়ারি, ১৯৫৩।
জন্মস্থান : ডুমুরিয়া গ্রাম, চাপড়া, চব্বিশ পরগণা, পশ্চিমবঙ্গ।
স্থায়ী নিবাস : খোর্দ খালিশপুর গ্রাম, খালিশপুর ইউনিয়ন, মহেশপুর, ঝিনাইদহ।
পিতা : আক্কাছ আলী মণ্ডল (১৯৭৭ সালে মারা যান)।
কর্মস্থল : সেনাবাহিনী।
মৃত্যু : ২৮ অক্টোবর, ১৯৭১।
শহীদ হন : মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ থানার মাধবপুর ইউনিয়নের ধলই সীমান্তে সম্মুখযুদ্ধে।
যে সেক্টরে যুদ্ধ করেন : ৪ নং সেক্টরে।

আমাদের মনে রাখতে হবে দেশের স্বাধীনতা কারো একক অবদানে আসেনি। সবকলের সম্মিলিত আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছিল আমাদের স্বাধীনতা। কারো অবদানই ক্ষুদ্র বিচার করা চলবে না। কৃষক, শ্রমিক, দিনমজুর, ডাক্তার, শিক্ষক, ছাত্র, নেতা সবাই তার দেশকে ভালবেসে, দেশমাতৃকাকে বাঁচাতেই সেদিন অস্ত্র হাতে নিয়েছিল। কারো ত্যাগই হেও করার কোন সুযোগ নেই। তাই আমাদের কোন জাতীয় বীরদের আমরা যেন কোন অবস্থাতেই অবমাননা না করি, তাদের হেও প্রতিপন্ন না করি, সেদিকে খেয়াল রাখা আমাদের একান্ত কর্তব্য। স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে আমাদের অনেক জাতীয় বীরদের হাতে বেশ কিছু রাজনৈতিক ধারা এদেশে সৃষ্টি হয়েছিল সত্যি। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধে সবাই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে শত্রুর মোকাবিলা করেছিল। তখন ছিলনা কোন ভেদাভেদ। সবাই ছিল একই বাংলা মায়ের সন্তান। সুতরাং রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের জন্য কোন অবস্থাতেই আমাদের কোন জাতীয় বীরদেরই অসম্মান করা উচিত বলে আমি মনে করিনা। তাদের সম্মান করতে না পারি, তাদের যেন আমরা অসম্মান না করি। তাহলে তো আমাদের নিজেদের জাতীয়তা আর অস্তিত্বেই একটা বড় প্রশ্ন থেকে যায় !!!!

স্বাধীনতার ৪৩ বছর পরে ১৯৭১ এর মতো আবার একবার গর্জে উঠুক বীর বাঙ্গালী।
আসুন ১৬ই ডিসেম্বরের বিজয় দিবসে সবাই মিলে আবার একটি প্রতিজ্ঞা করি।যে যেখানে আছি সেখান থেকেই স্বাধীনতা বিরোধীদের রুখবো এবং শের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব ,দারিদ্র্য ,অশিক্ষা ,সন্ত্রাস, দুর্নীতি ও বৈদেশিক হস্তক্ষেপমুক্ত একটি দেশ গড়ে তুলতে অতন্দ্র প্রহরীর মত কাজ করবো।আইনের শাসন, সামাজিক ন্যায় বিচার, শোষণ মুক্ত সমাজ, অবৈধ দখলদারি, পেশিশক্তিমুক্ত দেশ গড়ে তুলতে আমাদেরও সচেতন হতে হবে। নিজ নিজ জায়গায় থেকে কিছু কিছু কাজ করে যেতে হবে।
মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে সবাইকে বিপ্লবী শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।লাখো শহীদের রক্তে গড়া এই বাংলাদেশ।আসুন সবাই মিলে দেশ গড়ি …. শহীদদের রক্তদান যেন বৃথা না যায়!!

*****লেখাটি ভালো লাগলে আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুণ!*****

Lesar

আমিওপারি নিয়ে আপনাদের সেবায় নিয়োজিত একজন সাধারণ মানুষ। যদি কোন বিশেষ প্রয়োজন হয় তাহলে আমাকে ফেসবুকে পাবেন এই লিঙ্কে https://www.facebook.com/lesar.hm

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *