• u. Sep ১৬, ২০২১

আমিওপারি ডট কম

ইতালি,ইউরোপের ভিসা,ইম্মিগ্রেসন,স্টুডেন্ট ভিসা,ইউরোপে উচ্চ শিক্ষা

ফজলুর রহমান-মেহেরুন্নেসার যোগ্য উত্তরসুরি রাষ্ট্রদূত ইসমাত জাহান

ByLesar

Sep 11, 2014

মাঈনুল ইসলাম নাসিম : বাবা এম ফজলুর রহমান তৎকালীন পূর্ব-পাকিস্তান শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান, মা এডভোকেট মেহেরুন্নেসা খাতুন প্রাদেশিক পরিষদে যুক্তফ্রন্টের নির্বাচিত এমপি এবং নানা খান বাহাদুর আবদুল গোফরান ‘বাংলার বাঘ’ শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক সরকারের মন্ত্রী – তেমনি এক বংশের আলোকবর্তিকা হাতে আজ বাংলাদেশের সফল কূটনীতিক ইসমাত জাহান।

পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ে সুদীর্ঘ ৩২ বছরের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের অধিকারী এই সিনিয়র কূটনীতিক গত ৫ বছর ধরে ব্রাসেলসে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নে রাষ্ট্রদূতের দায়িত্বে আছেন। নারীর অধিকার ও ক্ষমতায়ণ ইস্যুতে আন্তর্জাতিকভাবে সুপরিচিত এই ‘ক্যারিশমেটিক ডিপ্লোম্যাট’ রাষ্ট্রদূত ইসমাত জাহান এর আগে ২০০৭-২০০৯ নিউইয়র্কে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধির দায়িত্ব পালন করেন বাংলাদেশের প্রথম নারী কূটনীতিক হিসেবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে সর্বোচ্চ ডিগ্রী নেয়া শেষে ১৯৮২ সালে পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ে যোগ দেয়ার পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টন থেকে ‘ল এন্ড ডিপ্লোম্যাসি’তেও মাস্টার্স সম্পন্ন করেন তিনি সাফল্যের সাথে। ওয়াশিংটনের জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ‘ফেলো’ ইসমাত জাহান নেদারল্যান্ডসে (২০০৫-২০০৭) বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব পালন ছাড়াও ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এবং বৈদেশিক বিভিন্ন মিশনে গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়েও পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। বর্তমানে বাংলাদেশের সবচাইতে সিনিয়র নারী কূটনীতিক ইসমাত জাহান চলতি বছর দ্বিতীয়বারের মতো নির্বাচিত হন জাতিসংঘের Committee on Elimination of Discrimination against Women (CEDAW)-এর সদস্য পদে। নারীর প্রতি সহিংসতা বিলোপ বিষয়ক জাতিসংঘ কমিটি (সিডও) সদস্য পদে এর আগেও ২০১১-২০১৪ প্রথম মেয়াদে দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

বাংলাদেশে ‘তাজরীন গার্মেন্টস অগ্নিকান্ড’ এবং স্মরণকালের ভয়াবহ ‘রানা প্লাজা ট্র্যজেডি’ পরবর্তী ইউরোপে বাংলাদেশি তৈরী পোশাক তথা আরএমজি’র বিশাল বাজার যখন হুমকির মুখে পড়ে, তখন ব্রাসেলসে ইউরোপিয় সদর দফতরে বাংলাদেশের স্বার্থরক্ষার কঠিন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সাফল্য দেখিয়েছেন ক্যারিয়ার ডিপ্লোম্যাট ইসমাত জাহান। এর আগে জাতিসংঘে স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে তাঁর দায়িত্বপালনকালীন সময়েই নিউইয়র্কে নিজস্ব ভবনে আলোর মুখ দেখে বাংলাদেশ মিশন।

বাংলাদেশের প্রতি অকৃত্তিম ভালোবাসা আজ ইসমাত জাহানকে তাঁর বাবা-মা’র মতোই খ্যাতির শীর্ষে পৌঁছে দিয়েছে। ইস্ট-পাকিস্তান টেক্সটবুক বোর্ডের বিপ্লবী চেয়ারম্যান, রাষ্ট্রদূত ইসমাত জাহানের বাবা এম ফজলুর রহমান সেন্ট্রাল পাবলিক সার্ভিস কমিশনেরও সদস্য ছিলেন। ষাটের দশকে তদানীন্তন পূর্ব-পাকিস্তানে যখন দানা বেঁধে উঠছিল বাংলাদেশের স্বাধীকার আন্দোলন, ঠিক ঐ সময়টিতেই এতদঞ্চলের স্বনামধন্য শিক্ষাবিদ এম ফজলুর রহমান চাকরির মায়া ছেড়ে কঠোর প্রতিবাদী হয়ে ওঠেন পশ্চিম পাকিস্তানের শাসকদের শোষণ ও বৈষম্যমূলক নীতির প্রতিবাদে।

সরকারী চাকরি থেকে ‘ওএসডি’ করে সরিয়ে দেয়া হয় তখন এই বীর বাঙালিকে। স্বাধীনতার মাত্র দু’বছর আগে ১৯৬৯ সালে হার্টের অপারেশন পরবর্তী লন্ডনে চিকিৎসাধীন অবস্থায় চলে যান তিনি না ফেরার দেশে। মাত্র ৫১ বছর বয়সে এম ফজলুর রহমানের অকাল মৃত্যুতে স্বাধীনতার আগেই বাংলাদেশ হারায় তাঁর সোনার সন্তানকে। দেখতে দেখতে মহাকালের গর্ভে হারিয়ে গেছে ৪৫টি বছর। শৈশবে বাবাকে হারাবার বেদনায় আজো ব্যথিত ইসমাত জাহান।

এই প্রতিদবেদকের সাথে একান্ত আলাপচারিতায় আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বললেন, ‘‘বাবা দেখে যেতে পারলেন না স্বাধীন বাংলাদেশ, অনেক সাধনা-সংগ্রাম-স্বপ্ন ছিলো তাঁর এদেশকে নিয়ে।’’ একাত্তরে এক সাগর রক্তের বিনিময়ে আসে স্বাধীনতা, বাংলাদেশের আকাশে ওড়ে লাল-সবুজ পতাকা। মরহুম এম ফজলুর রহমানের সহধর্মিনী এডভোকেট মেহেরুন্নেসা খাতুন পরম মমতায় সেবা দিয়ে যান স্বামীর সাধের বাংলাদেশকে।

এর আগে বায়ান্ন’র ভাষা আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহনের পর এই মহিয়সী নারী ১৯৫৪ সালে ময়মনসিংহ থেকে যুক্তফ্রন্টের এমপি নির্বাচিত হন। ১৯৬১ সালে ঢাকা হাইকোর্টের প্রথম নারী আইনজীবি হিসেবে নিয়োগ পান এডভোকেট মেহেরুন্নেসা। স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালীন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নিয়ে তিনি ঝাঁপিয়ে পড়েন মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য ঔষধ ও পরিধেয় বস্র সংগ্রহ এবং বিতরণে। হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসর কর্তৃক ধর্ষিতা অন্ততঃ ৫০ জন নারীকে উদ্ধার করে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করেন এডভোকেট মেহেরুন্নেসা।

বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবি সমিতির ফাউন্ডার প্রেসিডেন্ট এডভোকেট মেহেরুন্নেসা তাঁর মেধা, জ্ঞান ও ব্যক্তিত্বের সমন্বয়ে সমাজসেবায় অসামান্য অবদান রাখেন যুগের পর যুগ। নারী শিক্ষা, নারী অধিকার প্রতিষ্ঠা, আর্থ সামাজিক উন্নয়নে এবং মুক্তিযুদ্ধে গৌরবময় অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ ২০১১ সালে বাংলাদেশ সরকার এডভোকেট মেহেরুন্নেসা খাতুনকে ‘বেগম রোকেয়া পদক’-এ ভূষিত করে।

দু’বছর পরই ২০১৩ সালে তাঁর মহাপ্রয়াণে গভীর শোক প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সাবেক প্রাদেশিক পরিষদ সদস্যের মৃত্যুতে শোকপ্রস্তাব গৃহীত হয় মহান জাতীয় সংসদে। গত বছর ২৪ মে মায়ের মৃত্যুর সময় পাশে থাকতে পারেননি রাষ্ট্রদূত ইসমাত জাহান। ‘রানা প্লাজা ট্র্যাজেডি’ ইস্যুতে তখন ব্রাসেলসে একের পর এক জরুরি বৈঠক চলছিলো। এই প্রতিবেদককে বললেন, ‘‘মায়ের আদেশ ছিলো পৃথিবীর সবকিছুর চাইতে কাজকে প্রায়োরিটি দেবার।’’

রাষ্ট্রদূত ইসমাত জাহান আরো বলেন, ‘‘আসলে আমরা যাঁরা বৈদেশিক মিশনে কাজ করি, আমাদের বহু অর্জনের পাশাপাশি অনেক প্রতিকূলতাও মেনে নিতে হয়। তারপরও দেশের স্বার্থ আর বাবা-মায়ের আদর্শ যখন মিলেমিশে একাকার, তখন প্রতিকূলতার সেই অতৃপ্তিও বিলীন হয় তৃপ্তির সীমানায়।’’

*****লেখাটি ভালো লাগলে আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুণ!*****

Lesar

আমিওপারি নিয়ে আপনাদের সেবায় নিয়োজিত একজন সাধারণ মানুষ। যদি কোন বিশেষ প্রয়োজন হয় তাহলে আমাকে ফেসবুকে পাবেন এই লিঙ্কে https://www.facebook.com/lesar.hm

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *